ডিজিটাল বাংলাদেশের কারিগর

ডিজিটাল বাংলাদেশ একটি স্বপ্নের নাম। অনেক কটাক্ষ, বক্রোক্তি আর সমালোচনার মধ্যেই এ স্বপ্নের জন্ম। সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ পেয়েছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার এক অনন্য পদক্ষেপ হলো ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কনসেপ্ট। এটি বাস্তবায়িত হয়েছে বলে তথ্য ও প্রযুক্তিগত সুবিধা আজ জনগণের হাতের মুঠোয়। বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, সোলার, মোবাইল আজ শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে গেছে। এর স্বপ্নদ্রষ্টা হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তনয় সজীব ওয়াজেদ জয়। ২৭ জুলাই তার জন্মদিন। এদিনে তাকে জানাই জন্মদিনের অনিঃশেষ শুভেচ্ছা।

তথ্য-প্রযুক্তির বিশ্বে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন পেছনের সারিতে ছিল। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে প্রযুক্তি নিয়ে বৃহৎ পরিসরে কাজ করার কথা দশ বছর আগেও কেউ ভাবেনি। ২০০৮ সালে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গঠনের প্রস্তাব রাখেন আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা সজীব ওয়াজেদ জয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কনসেপ্টটি নির্বাচনী ইশতেহারভুক্ত করে আওয়ামী লীগ। এই প্রস্তাবনাটি কেবল বাংলাদেশের জন্য যুগান্তকারী সিদ্ধান্তই ছিল না, এটি ছিল বিশ্বের সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে চলার অনন্য এক অভিযাত্রা।

সার্বিকভাবে বাংলাদেশকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে সজীব ওয়াজেদ জয়ের অবদান অনস্বীকার্য। দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হাইটেক পার্ক নির্মাণ, ফোর-জি চালু, ইন্টারনেটের দাম কমানো, কম্পিউটারের শুল্কমুক্ত আমদানি, ফ্রিল্যান্সিংয়ে উৎকর্ষ, বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ অনলাইনে করাসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে জয় উদ্যোগী ভূমিকা রেখেছেন। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কারণে তথ্যপ্রাপ্তি এখন অনেক সহজ হয়েছে। সম্প্রতি এক বক্তব্যে জয় বলেছেন, দেশের সরকারি যত সেবা আছে, তা দেশের সব মানুষের হাতের মধ্যে পৌঁছে দেব। ঘরে ঘরে পৌঁছে দেব। দেশের মানুষকে আর সরকারি দপ্তরে আসতে হবে না। এটাই হচ্ছে আমাদের স্বপ্ন। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন।’ এ বছর মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সরকার এখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কয়েক বছর আগেও এটি ছিল স্বপ্নের মতো। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে বর্তমানে রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তিতে বৈশ্বিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যৌবনের দূত জয়কে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই।

সজীব ওয়াজেদ আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ কোনো দলীয় পদে নেই। অথচ তিনি চাইলেই দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হতে পারতেন। এ থেকেই বোঝা যায়, জয় পদকে মুখ্য করে দেখেন না। তিনি মানুষের পাশে থাকা ও মানুষের জন্য কাজ করাকে মুখ্য করে দেখেন। তিনি প্রমাণ করলেন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে না থেকেও দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করা যায়। স্বভাবতই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তার রক্তে মিশে আছে। প্রায় প্রতিটি বক্তব্যে জয় শ্রোতাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অক্ষুণ্ণ রাখার কথা বলেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার চেতনা কোনোদিন ভুলবেন না। ভুলতে দেবেন না। আর কাউকে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেবেন না। এমন মিথ্যা প্রচারের সুযোগ দেবেন না, যাতে জাতি শহীদদের ভুলে যায় এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত হয়। জয় বলেন, দেশের মানুষের সেবা করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ কোনো শ্রেণির উন্নয়নের রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাসী নন। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উন্নয়নের রাজনীতির কথা বলেন তিনি। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের মেধা আছে, ঐতিহ্য আছে, শিক্ষা আছে আমাদের চুরি করার প্রয়োজন নেই।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরি তার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্র পরিচালনা, নেতৃত্বে দক্ষতা, মানবিকতায় তার যোগ্যতা বাংলাদেশ তো বটেই, সারাবিশ্বেই প্রতিষ্ঠিত। সজীব ওয়াজেদ জয় হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য উত্তরসূরি। মায়ের অবসরকালে তিনিই হবেন দল ও দেশের কাণ্ডারি। পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে তার মধ্যে স্বভাবসুলভ নেতৃত্বের গুণ রয়েছে। ২০০৭ সালে তিনি নেতৃত্বের জন্য ‘ইয়ং গ্লোবাল লিডার’ নির্বাচিত হন। তার রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ না হলেও এ দেশের রাজনীতি সম্পর্কে তার জ্ঞান কম নয়। তিনি বিএনপি-জামায়াতের চক্রান্ত ও তথ্যসন্ত্রাস বিষয়গুলো সহজে ধরতে পেরেছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগকে নিয়ে করা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তিনি শক্তিশালী অবস্থান নেন। নেতাদেরও অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র রুখতে সচেতন হওয়ার জোর তাগিদ দেন। কারণ তিনি জানেন, অপপ্রচার রুখতে না পারলে সরকারের কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে। তাই তিনি মনে করেন, জনগণকে কেউ যাতে বিভ্রান্ত করতে না পারে সে জন্য নেতাকর্মীকে অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে এবং সরকারের সফলতা জনগণের কাছে বারবার তুলে ধরতে হবে। মানুষের ভুল ধারণাগুলো ভাঙতে হবে। সরকারের উন্নয়নগুলোর ব্যাপক প্রচার ও মাধ্যম হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

যৌবনের জয় সর্বত্র। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সজীব ওয়াজেদ জয় যৌবনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি তারুণ্যের চাহিদা ও স্বপ্নের কথা বুঝতে পারেন। অন্যদিকে জয় তাদের সমকালীন হওয়ায় যুবক ও তরুণরা তার কর্মকাণ্ডে আগ্রহী ও উৎসাহী। আপামর মানুষ তাকে নেতা হিসেবে দেখতে উৎসুক হয়ে আছে। জয় আওয়ামী লীগের হয়ে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক এটি এখন জনতার দাবি। তারা চান জয় বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করুক। জনগণের প্রত্যাশার কথা আওয়ামী লীগ বিবেচনা করবে বলে আমার দৃঢ়বিশ্বাস।

১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্যেষ্ঠ সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্ম। স্বাধীনতা যুদ্ধের বছরে জন্মেছেন বলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার দৌহিত্রের নাম রেখেছিলেন জয়। কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসন বিষয়ে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে জয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। জয়ের কর্মে আজকের বাংলাদেশ যেন সর্বত্র জয়ময়। মহাকাশে জয়, তথ্য ও প্রযুক্তিতে জয় এবং সুন্দর একটি আগামীর নাম জয়। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র জয় একদিন বরেণ্য রাজনীতিবিদ হয়ে পৃথিবী জয় করবেন, আজ তার জন্মদিনে আমাদের এই প্রত্যাশা ও শুভকামনা রইল।

[ ড. মোহাম্মদ হাসান খান ]

Source: albd.org