আমার আমি হওয়ার শুরুটা

১০২ ডিগ্রী জ্বর নিয়ে পরীক্ষায় বসেছি। কি লিখলাম, কি অংক করলাম কিছুই মনে নাই এটুকু মনে আছে পরীক্ষা শেষ করেই বের হতে হবে এমন একটা জিদ কাজ করছিলো। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে ছোট্ট সেই আমি হাই স্কুলের চৌকাঠে পা দিতে গিয়েই একের পর এক বিপত্তি! শুধুমাত্র দুটি স্কুলে পরীক্ষা দিয়েছিলাম।  একটা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক এবং আরেকটা আমার নাসিরাবাদ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়। না, তখনো স্কুলটা আমার ছিলো না!

আমার গৃহশিক্ষক হিসেবে আমার চাকুরীজীবী মা’ই দায়িত্বে ছিলো বলে পড়ালেখায় সেই সময়টাতে মোটামুটি ভালোই ছিলাম। ক্যান্টনমেন্ট পাবলিকের ভর্তি পরীক্ষায় আমার বেঞ্চ একেবারে শেষে কোনায় পড়েছিল এবং ঐ বেঞ্চেই আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আমার বোনের শিক্ষক গিয়ে আমাকে ডেকে দেয় (বোন  ঐ কলেজে ছিলো বলেই সেখানে পরীক্ষা দেওয়া)। কিন্তু ততক্ষণে দেরী হয়ে গিয়েছে, পরীক্ষা শেষ হওয়ার আর মাত্র ১০ মিনিট বাকি ছিলো। প্রায় সাদা খাতা জমা দিয়ে পরীক্ষা থেকে বের হয়েই আম্মুকে বললাম আমার টিকা কেউ আটকাইতে পারবে না। সবচেয়ে ভালো পরীক্ষা আমি দিসি। ঘন্টাখানেকের মধ্যেই যদিও সেই স্যারের কল্যাণে সবাই আমরা সাদা খাতার রহস্য জেনে যায়…

প্রাইমারীতে থাকাকালীন আমি। খুব সম্ভবত ক্লাস ওয়ান, টু কিংবা থ্রি!!!

সেই বুঝতে শিখার পর থেকেই দেখে আসছি দুষ্ট হিসেবে আমার খ্যাতি, কি আত্নীয়, কি পরিবার, কি শিক্ষক, সবার কাছেই জগতবিখ্যাত। আর এজন্যই কিনা জানি না আমার পরিবার সবসময়ই আমাকে দূরে কোথাও ছাড়তো না, আর সেই সুবাদেই নাসিরাবাদ বয়েজই হয়ে উঠে আমার হাই স্কুলের ঠিকানা। যেখানে ছিলাম, ১০২ ডিগ্রী জ্বর নিয়ে পরীক্ষা দিয়ে আসার পর কেউই ভাবেনি আমি বয়েজে টিকবো এবং সবাই যথারীতি কোথায় ভর্তি করাবে সে ব্যাপারে চিন্তিত ছিলো। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা আড়ালে হাসছিলেন। নোটিশ বোর্ডে আমার বোন রেজাল্ট দেখা শুরু করে একেবারে শেষ থেকে এবং আমার রোল পায় প্রথম থেকে ৩ নাম্বারে…সেই সাথে পূর্ণ হয় নাসিরাবাদ বয়েজ আমার স্কুল হওয়ার প্রথম পদক্ষেপ।

মর্নিং সিফটে, ৬ষ্ঠ শ্রেণীর – ঘ শাখা হয় আমার ঠিকানা। রোল নাম্বার হয় ১২। এই রোল নাম্বারে নিয়ে আমার মজার একটা ব্যাপার আছে। আমি প্রত্যেক শ্রেণীতে ঠিক চার করে পিছিয়েছি। যেমন: সেভেনে ছিলো ১৬, এইটে ২০, নাইনে ২৪। পরে বিভাগ ভিত্তিক কম্বাইন্ড হয়ে নাইনে ৩০ হয়ে যায় এবং চেইনটা সেখানেই ভেঙে যায়।

মান্নান স্যার ছিলেন আমাদের ক্লাস টিচার। আজকের মান্নান স্যার আর তখনকার মান্নান স্যার আকাশ আর পাতাল! পরিপাটি ইউনিফর্মে ক্লাশে ঢুকেই দেখি টেবিলের উপর ২টা ইয়া মোটা বেত, তার মধ্যে একটা তে টেপ টেনিসের টেপ লাগানো। শুরুটা ভালোই ছিলো। আমার মা আবার বলে দিয়ে গেল গায়ের মাংস সব রেখে শুধু হাড্ডিটা পাঠালে চলবে। আমার বাঁদরামির সামান্য একটা নমুনা দেই, ক্লাস ফোরে থাকার সময় মারামারি করে ডাইরীতে রিপোর্ট উঠাইসি আর সেই রিপোর্টে আম্মুর স্বাক্ষর নকল করে ধরাও খাইসি !!!

মান্নান স্যার। ছবিঃ সংগৃহীত।

মান্নান স্যার আর ধর্ম ক্লাস নেওয়া স্কাউটের কামাল স্যারের বেঞ্চের নিচে মাথা ঢুকায়ে পশ্চাৎ দেশে দেওয়া মাইর গুলাই শুধু মনে পড়ছে। স্কাউটের কামাল স্যার অনেক ভালো একজন মানুষ ছিলেন। আল্লাহ্‌ তাকে জান্নাত নসীব করুন।

সিক্স কোনরকমে পার করে ক্লাস সেভেন। ফাতেমা আপা ছিলো ক্লাস টিচার। এই ক্লাস থেকেই ডানা গজানো শুরু। প্রথমবারের মত ক্লাস বাং। প্রথমবারের মত স্কুল পালানো। জি ই সি মোড় চেনা। সাইবার ক্যাফেগুলো চেনা। সবচেয়ে বেশি আমাকে যেখানে পাওয়া যেত সেন্ট্রালের বাইক পার্কিং এর পাশে সেই ভিডিও গেমসের দোকান চেনা !!! আম্মু, আপু কত হাজারবার ধরে আনসে তার কোন হিসাব নাই! এই সেভেনে থাকা অবস্থায়ই আমার বোন দুঃসাহসিক এক কাজ করে। বৃহস্পতিবার হাফ স্কুল। স্কুলের মাঠে খেলছিলাম দেখে বুয়া আমাকে নিতে আসার পরও আমি যাই নি। আধা ঘন্টা পর আমার বোন এসে মাঠের মাঝখানে সবার সামনে আমার গালে ঠাস!!! শব্দটা এতটাই ছিলো, আমার বন্ধুবান্ধব সহ আশেপাশে যারা ছিলো সবাই খেলা থামায়ে দেয়!!!

এই সেই জায়গা যেখানে সেই বিখ্যাত (!) থাপ্পড়ের জন্ম 🙁 ছবিঃ রাহাত রহিম

 

ক্লাস এইট। মোড় ঘুরানো ক্লাস। বাঁদরামি করতাম প্রচুর তবে সেটা কখনোই বাধ ভাঙা ছিলো না। এই ক্লাস থেকেই শুরু হলো চিরাচরিত সেই মর্নিং – ডে রেশারেশি। রেশারেশি থেকে মারামারি। নাভির উপরে থাকা প্যান্ট ধীরে ধীরে নিচে নামা শুরু হল।

মোস্তফা স্যার ছিলেন আমাদের ক্লাস টিচার। একদিন এবসেন্ট থাকলেই এপ্লিকেশন দেওয়া আর বেতের আদর বাধ্যতামুলক ছিলো। আরেকজন স্যারের কথা খুব বেশি মনে পড়ছে, তিনি হলেন দেবাশীষ স্যার কৃষিশিক্ষার ক্লাস নিতেন। উনার মারার স্টাইল ছিলো ইউনিক। জুল্ফি ধরে এক নাগারে ১০-১৫ মিনিট, উনার মন না ভরা পর্যন্ত হাত দিয়ে গালে আদর করতেন।

ততদিনে স্কুল পুরা আমার হয়ে গিয়েছে। 😉 3:-)

হোসেন স্যার, ছবিঃ সংগৃহীত

ক্লাস নাইনে সিকদার স্যার আসলেন ক্লাস টিচার হয়ে। প্রথম দিনটাই শুরু হয় সিকদার স্যারের মাইর দিয়ে, এই ধারা পরেও অব্যাহত ছিলো। অংকে ফেইল করে খাওয়া মাইরটা স্মরণীয় কারণ স্যারকে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম। সাইন্স, কমার্স দুটি সাবজেক্টই পাওয়ার কারণে সাইন্স চুজ করি এবং সেসময়ই কিছু নতুন শিক্ষক জয়েন করেন স্কুলে। আরিফ স্যার আর আমিন স্যার তাদের মধ্য থেকেই দুজন। আমিন স্যার বায়োলজি পড়ানোর স্টাইলই চেঞ্জ করে দিলেন। হাতে কলমে ব্যাঙ তেলাপোকা কাটায়ে পরিপক্ক বানালেন। আরিফ স্যার অংক ক্লাস নিতো এবং তিনিও অংক করানোর স্টাইলই বদলে দিলেন। অংক মুখস্থ করার ধারা থেকে অনেককেই বের করে আনলেন। নাইনেই ইংরেজির জন্য আলাদা করে হোসেন স্যারের কাছে পড়া শুরু করি। বোনও স্যারের ব্যাচে পড়ার সুবাদে উনি আমার পূর্বপরিচিত ছিলেন, এবং সিক্সে ভর্তি পরীক্ষার সময়ও আমি উনার কাছেই পড়েছিলাম। ধীরে ধীরে অংকের উপর দখল বাড়তে থাকলো, ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়তে থাকলো, অল্প অল্প সায়েন্স বুঝতে শুরু করলাম। তৈরী হতে থাকলো আমার বেইজমেন্ট।

আমিন স্যার ছবিঃ সংগৃহীত

ক্যাম্পিং করতে হত বলে স্কাউট এবং বি এন সি সি কোনটাতেই আমার পরিবার আমাকে যেতে দেয় নি। তারপরও কো-কারিকুলাম তো চাইই চাই। আরেকটা মোড় ঘুরলো আমার। হঠাত করেই শুনি বিতর্কের কথা। জাতীয় পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় স্কুল থেকে টিম পাঠাবে ঢাকায়। বহু চড়াই উতরাই করে অবশেষে তিন জনের দলে জায়গা পেলাম। কিন্তু বাধ সাধলো পরিবার। আমাকে একা ঢাকা যেতে দিবে না কিছুতেই। তখনি ত্রাণকর্তা হিসেবে আসলেন আমার সবচেয়ে প্রিয় সালমা আপা। যতবার তাঁর বাসায় গিয়েছি কোনবারই ভরপেট না খাইয়ে ছাড়েননি। তিনি আমার বাসায় এসে আব্বু-আম্মুকে বুঝায়ে গেলেন। আমিন স্যারের তত্ত্বাবধানে আমরা রওনা দেই ঢাকায় বিটিভির উদ্দেশ্যে। একে তো প্রথমবারের মত স্টেজে উঠা তার উপর টিভি ক্যামেরা তাক করা। ৫ মিনিটের স্ক্রিপ্ট ২ মিনিটে শেষ করে ডায়াস থেকে নেমে এসে যখন বসি তখনো পা কাপছিলো। মাত্রাটা আরো বেড়ে গিয়েছিলো কারণ অপনেন্ট ছিলো নাটরের একটা বালিকা বিদ্যালয়। আমাদের তিনজনের অবস্থাই ছিলো সেইম। ফলাফল হার। এরপর আরো বহুবার বিতর্কের মঞ্চে উঠেছি, মঞ্চে বক্তৃতাও দিতে হয়েছে অনেক, কিন্তু প্রথমবারের সেই অভিজ্ঞতা আর কখনো হয় নি। ক্লাশ নাইনেই প্রথমবারের মত স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পুরষ্কার পাই। চিত্রাঙ্কনে তৃতীয় হই। ততদিনে মর্নিং-ডে’র রেশারেশিতে লাগাম পড়েছে। ক্লাশ এইটের সেই মোড় থেকে যখন আরেকটি মোড়ে আসার চেষ্টা চলছিলো তখন আবার ঘুরে ফিরে সেই পুরানো মোড়েই যেতে হল। এবার ক্লাশ নাইন বনাম ক্লাশ টেন। তাও ক্লাশ নাইন বলতে আমি তখন একাই !!!

 

সালমা আপা, ছবিঃ সংগৃহীত

প্রথম সাময়িক, দ্বিতীয় সাময়িক ফেল করে বার্ষিক পরীক্ষায় টেনেটুনে ক্লাস টেনে উঠে দেখি ক্লাস টিচার আহসানউল্লাহ স্যার। যথারীতি এই ক্লাসও ব্যতিক্রম ছিলো না। বেতটা ছিলো বিশাল লম্বা এবং ডাবল টেপ মোড়ানো। সবচেয়ে বেশি ক্লাস বাং দিয়েছি ক্লাস টেনেই। সবচেয়ে মজার একটি ঘটনা, মুষলধারে বৃষ্টিতে স্কুল টাইমে স্কুল ফাঁকি দিয়ে স্কুলের মাঠেই ফুটবল খেলেছিলাম। শেষের শুরুটা স্যাররা জানতেন বলেই হয়তো আমাদের কিছু বলেন নি। দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে গিয়েছিলেন। ধীরে ধীরে শেষের দিকে আগাতে থাকি। অনুভব করা শুরু করি কিছু হারানোর। তখনো বুঝে উঠতে পারি নি আসলে সবকিছুই অর্থহীন। নিজের স্কুলের সীমানা ছাড়িয়ে রেশারেশি, মারামারি, স্কুলের ইজম নিয়ে কলেজিয়েট, ইস্পাহানীর সাথে হওয়া যুদ্ধগুলোতে কেমন যেন ছন্নছাড়া মনে হয়। স্কুলটা খুব ধীরে ধীরে অপিরিচিত হতে শুরু করে……

আরিফ স্যার, ছবিঃ সংগৃহীত

টেনে উঠে আর ফেইলের মুখ দেখতে হয়নি। প্রতিটা পরীক্ষাতেই ভালোভাবে উতরে গিয়েছিলাম। টেস্টে ধর্মে এ প্লাস পেয়েছিলাম আর এস এস সি তে এই ধর্মেই আমার এ প্লাস মিস। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আবার পুরষ্কার পাই, তবে এবারেরটা অনেকটা ঝড়ে বক মরসে টাইপ। চাকতি কেমনে নিক্ষেপ করতে হয় দেখতে গিয়ে স্যারের সামনেই নিক্ষেপ করলাম আর সেই দুরুত্বই আমাকে তৃতীয় পুরষ্কার এনে দেয়। ১০০ মি আর ২০০ মি দৌড়ে প্রথম হয়ে সমাপনি দিনের ফাইনালের জন্য বেঁধে রাখা আশা ৫০০ মি দৌড়াতে গিয়ে শেষ হয়ে যায়। আধা ল্যাপ বাকি ছিলো, আমি ছিলাম সবার অনেক সামনে এবং ঠিক তখনি রগে টান। সেবারি আমার শেষ দৌড় প্রতিযোগিতা ছিলো। সবচেয়ে গর্বিত ছিলাম এই জন্য, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় আমাদের হাউজের হাউজ লীডার ছিলাম আমি। আমাদের পাশের হাউজের সাথে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে আমি ওদের কয়েকটা বেলুন ফুটা করে দেই আর আরিফ স্যার এসে আমাকে যে থাপ্পর………

আমার সেরা দিনগুলির মধ্যে যে দুটি দিন এগিয়ে আছে, দুটিই র‍্যাগ ডে। একটা আমার স্কুলের, আরেকটি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডিপার্টমেন্টের)। আমার র‍্যাগের শার্ট আমার কাছে এখনো আছে। থাকবেও যতদিন আছি…র‍্যাগের যত স্মৃতি তা স্বল্প পরিসরে এবং পাব্লিকালি বলা ঠিক হবে না তবে র‍্যাগের পরই আমরা হোটেল জামানে ব্যান্ড প্রোগ্রামের আয়োজন করেছিলাম এবং আমাদের আমীন স্যার সেই নাচ দিয়েছিলো সেদিন। আমিন স্যারই, আমাদের প্রোগ্রমটি টেক কেয়ার করেছিলো সেদিন। হতে পারে, আমরা তাঁর প্রথম ব্যাচ ছিলাম বলেই আমাদের প্রতি তাঁর টানটা তখন অন্যরকম ছিলো।

আমাদের সময়কার মাঠ। ছবিঃ রনি রাজু; সময়ঃ ২০০৩ সাল

 

আমাদের বিদায় সংবর্ধনার অনুষ্ঠান। ডান থেকেঃ শরীফা আপা, আমি, সালমা আপা, সামির ও শাকিল

বিদায় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্কুল ফাইনালি আমাদের আনুষ্ঠানিক বিদায় জানিয়ে দেয়। শেষ সুতোটিও ছিঁড়ে যায় এস এস সি’র রেজাল্টের দিন। আমি এ প্লাস পাবো এটা আমার পরিবার সহ অনেকেই ভাবে নি । রেজাল্ট জেনে গিয়েছিলাম তারপরও কনফার্ম হতে আমাদের কেমিস্ট্রি টিচার শরীফা আপাকে ওনার হাতে থাকা রেজাল্টের সীটে আমার নাম্বার দেখতে বলেছিলাম। উনি যখন দেখলেন আমার রেজাল্ট এ প্লাস এসেছে তখন আমার চেয়ে মনে হয় উনিই বেশি খুশি হলেন কারণ যেভাবে উনি মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দিচ্ছিলেন বুঝতে পারছিলাম স্কুলের অসংখ্য অভিভাবক হারিয়েছি। স্যারদের বেতের শাসন যদি না থাকতো তবে এই জায়গায় আশা সম্ভব হত না। তখন না বুঝলেও এখন বুঝি উনারা আমাদের জন্য কি ছিলেন। তাঁদের হাত ধরেই আজকে অনেকেই সুপ্রতিষ্ঠিত অথচ তাঁরা আজও আগের সেই জায়গাতেই রয়ে গিয়েছেন। সুদক্ষ ও নিপুণ কারিগরি হাতে বানিয়ে চলছেন এক একটি রত্ন।

আমাদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।

এস এস সি’র যেদিন রেজাল্ট দেয় সেদিন অডিটোরিয়ামটা এক কোমর পানির নিচে ছিলো, সময়টা ছিলো ২০০৭ এর জুলাই। এরপর স্কুলের আশে পাশে গিয়েছি, মাঠে গিয়েছি বহুবার কিন্তু স্কুলে যাওয়া হয় নি। অডিটোরিয়ামটা যেভাবে রেখে গিয়েছিলাম এখনো সেভাবেই আছে। শুধু পানির জায়গায় এখন জমাট কংক্রীট। ২০১৭ এখন, ৫০ বছরের স্কুল আমার নাসিরাবাদ বয়েজ… আবার এসেছি, কিন্তু আমার স্যার, ম্যাডাম অধিকাংশই আজ নেই। হয় বদলী, নয় অবসর… আমার ক্লাসগুলো আর নেই… লাইব্রেরীটা বিভক্ত হয়ে ক্লাসরুমে পরিণত হয়েছে। লাইব্রেরীটা অন্য কোথাও আছে না বিলুপ্ত হয়েছে তাও জানি না। সেভেনে সবচেয়ে বড় যে রুমটিতে আমরা ক্লাস করেছি, পরিত্যাক্ত; নাইন যেখানে পড়েছি, পরিত্যাক্ত; টেন যেখানে ছিলো তাও পরিত্যাক্ত… সিক্সে যে রুমটায় শুরু করেছিলাম ঐ রুমে সিক্স এখন আর নেই। ১০টি বছর !!!!! আমার আমি হয়ে উঠার বেইজমেনটা যেখানে, সেই আঁতুড়ঘরের অনেক কিছুই আজ নেই কিন্তু তাঁর গড়ে দেওয়া সেই বেইজমেন্টটি রয়ে যাবে আজীবন……

নাসউবি উৎসব উপলক্ষে আয়জিত আনন্দায়াজোনে